হ্যাকারদের চোখ অ্যাভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রিতে
কয়েকদিনের ব্যবধানে উড়োজাহাজ শিল্প বা অ্যাভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রিতে হ্যাকারদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে বিশ্বের তৃতীয় বৃহৎ উড়োজাহাজ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এমব্রায়ারও রয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর পৃথক পৃথক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি র্যানসামওয়্যার ম্যালওয়্যারে আক্রান্ত হয় সুইজারল্যান্ডভিত্তিক হেলিকপ্টার প্রতিষ্ঠান 'কপ্টার'। এর কিছুদিন পর ব্রাজিলভিত্তিক প্রতিষ্ঠান 'এমব্রায়ার' হ্যাকারদের সাইবার হামলার শিকার হয়।
জানা গেছে, হ্যাকাররা এমব্রায়ারের সার্ভারে র্যানসামওয়্যার ম্যালওয়্যারের মাধ্যমে সাইবার হামলা চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের বিভিন্ন তথ্য, ব্যবসায়িক চুক্তি, ফ্লাইট সিমুলেশন ফটো এবং সোর্স কোডসহ অন্যান্য তথ্য হাতিয়ে নেয়। পরবর্তীতে এসব তথ্য বিক্রি করার উদ্দেশ্যে ডার্ক ওয়েবে আপলোড করা হয়।
প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম জেডডি জানিয়েছে, র্যানসামওয়্যার ম্যালওয়্যারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির ডেটাবেজ সিস্টেম লক করে দেয় হ্যাকাররা। এর বিনিময়ে অর্থ চাইলেও অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানায় এমব্রায়ার কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে বিকল্প পন্থায় তথ্য পুনরুদ্ধার করলে হ্যাকাররা প্রতিশোধ নিতে হ্যাক হওয়া তথ্য ডার্ক ওয়েবে বিক্রির উদ্দেশ্যে আপলোড করে।
'র্যানসামইএক্সএক্স র্যানস্যামওয়্যার গ্যাং' নামের একটি হ্যাকার গ্রুপ এই হামলা চালায়।
আক্রান্ত প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এই হামলার ঘটনায় হ্যাকাররা বেশিদূর এগোতে পারেনি। ফলে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে সাময়িক প্রভাব পড়েছে।
এরআগে গত সপ্তাহে হ্যাকাররা কপ্টারের অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্কে হামলা চালায়। হাতিয়ে নেয় বেশকিছু ফাইল। কপ্টার কর্তৃপক্ষ হ্যাকারদের অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে হ্যাক হওয়া কিছু তথ্য ডার্ক ওয়েবে আপলোড করে সাইবার হামলাকারীরা।
লকবিট নামের এই হ্যাকারগ্রুপটি জানিয়েছে, কপ্টারের নেটওয়্যার্কে ব্যবহার করা ভিপিএনের পাসওয়্যার্ড দুর্বল ছিল। ফলে তারা সহজেই প্রতিষ্ঠানটির নেটওয়্যার্কে হামলা চালাতে সক্ষম হয়।
উল্লেখ্য, অ্যাভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রিতে গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে ঘটে বড় ধরনের র্যানস্যামওয়্যার আক্রান্তের ঘটনা। সেইসময়ে এয়ারক্রাফট প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এএসসিওকে বেলজিয়াম, জার্মানি, কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রে কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হতে হয়।
ডিজিটেক/আরএইচ